মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বাহুবলে শিশু সন্তানকে গলা টিপে হত্যার ঘটনায় ঘাতক পিতা গ্রেপ্তার

  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০
  • ৫৬৬ বা পড়া হয়েছে

বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলে এনামুল হক শাকিল (৭) নামে শিশু সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করার ঘটনায় ইমান আলী (৪৫) নামে ঘাতক পাষন্ড পিতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘাতক ইমান আলী উপজেলার লস্করপুর গ্রামের মৃত নিনাই মিয়ার পুত্র ও নিহত শিশু এনামুল হক শাকিল স্থানীয় কোটান্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য দরবেশ আলী জানান, রোববার রাতের কোন এক সময় লস্করপুর রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত সরকারি কলোনীর বাসা (শিশু হত্যার স্থান) থেকে বালিশ-বিছানা নিয়ে পাশ্ববর্তী ঘোষপাড়া গ্রামের অ্যাডভোকেট নাসির হোসেন এর পরিত্যক্ত তালাবদ্ধ একটি ঘরের টিনের ভেড়া কেটে ভিতরে প্রবেশ করে রাত্রী যাপন করে। সোমবার সকালে বাড়ির দায়িত্বরত কেয়ারটেকার জালাল মিয়া ঘরের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে ঘরের ভেড়ার ছিদ্র দিয়ে ভিতরে শিশু হত্যাকারী ঘাতক ইমান আলীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি স্থানীয় লোকদের জানালে ঘরের চতুর্দিক দিয়ে ঘেরাও করে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘাতক পিতা ইমান আলীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এর সাথে বারবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তবে নিহত শিশুর মাতা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গতঃ দিনমজুর ইমান আলী বছর দশেক পূর্বে একই গ্রামের নূরুন্নাহারকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত সরকারি কলোনীতে বসবাস করে আসছেন। ইতোমধ্যে দাম্পত্য কলহের মধ্য দিয়েও তাদের পরিবারে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। প্রায়ই স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ইমান আলী। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার শালিশী বৈঠকও হয়। ঘটনার দিন শনিবার দিবাগত রাতেও স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে খাবার না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে বিছানায় ঘুমিয়ে ফন্দি করে সন্তানদের মেরে স্ত্রীকে ফাঁসানোর ফন্দি করে ইমান আলী। আনুমানিক রাত ১ টার দিকে শিশু সন্তান এনামুল হক শাকিল কে কৌশলে ঘুমন্ত অবস্থায় শীতের কম্বলের নিচে গলা টিপে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে অপর শিশু সন্তান চাঁদনী (৫) কেও একইভাবে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করে এবং বলতে থাকে তোর ভাইকে মেরেছি এখন তোকে মেরে তোর মাকে জেলের ভাত খাওয়াব। পিতার মুখ থেকে একথা শোনে সে শোর চিৎকার করতে থাকে। এসময় সন্তানের চিৎকার শুনে বিষয়টি অন্যরকম ভেবে পাশের রুম থেকে মা নুরুন্নাহার ছুটে এসে দরজায় লাথি দিয়ে ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে চাঁদনীকে উদ্ধার করে মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। এসময় ঘরের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে ইমান আলী পালিয়ে যান। পরে এনামুল হক শাকিল খুঁজতে গিয়ে মা নুরুন্নাহার কম্বলের নিচে সন্তানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে রোববার সকালে বাহুবল মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আলমগীর হোসেন নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com