মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ বহু স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী জোহর হোসেন চুনারুঘাট উপজেলার জারুলিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল পরিসরের ড্রাগন ফলের বাগান। কয়েক বছর ধরে বাগানে ভালো ফলনও পেয়েছেন তিনি। তবে চলতি মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে বাগানের ড্রাগন গাছ, ফুল ও ফল নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পচে যাচ্ছে। অনেক গাছও মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনে প্রয়োগ করেও কোনো সুফল না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই প্রবাসী উদ্যোক্তা।
জানা গেছে, দেশের মাটির টানে ও কৃষিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে জোহর হোসেন চুনারুঘাটের জারুলিয়া এলাকায় ‘মনোয়ারা-জহুর এগ্রো লিমিটেড’-এর আওতায় ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলেন। গত কয়েক বছর বাগানে আশানুরূপ ফলন হওয়ায় তিনি উৎসাহিত হন। কিন্তু এ বছর অতিবৃষ্টির পর বাগানে ব্যাপকভাবে রোগ দেখা দেয়। ফুল আসার পর ফল ধরলেও তা পচে ঝরে যাচ্ছে। পাশাপাশি গাছগুলোও নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।
বাগানের মালিক জোহর হোসেন বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে দেশের মাটির টানে ড্রাগন বাগান করেছি। গত কয়েক বছর ভালো ফলন পেয়েছি। কিন্তু এ বছর বাগানের অবস্থা খুবই খারাপ। ফুল ও ফল পচে যাচ্ছে, গাছও মরে যাচ্ছে। নিজের মতো করে বিভিন্ন ওষুধ কিনে ব্যবহার করেও রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ পেলে হয়তো বাগানটি রক্ষা করা সম্ভব হতো।”
তিনি আরও বলেন, এ বছর বাগানে প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, “অনেক আশা-আকাঙ্খা নিয়ে প্রবাসী জোহর হোসেন ড্রাগন বাগানটি করেছেন। দেশের মানুষের ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তিনি নিজেও একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগানের ফুল, ফল ও গাছগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। কী কারণে এমন হয়েছে, তা কৃষি বিভাগ ভালো বলতে পারবে। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।”
সমাজকর্মী আবু জাহির বলেন, “একজন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও উদ্যোক্তা দেশে বিনিয়োগ করেছেন। কৃষি উপসহকারীর যথাযথ সহযোগিতা ও পরামর্শ না পাওয়ায় তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। একজন উদ্যোক্তা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে কী দিয়ে সান্তনা দেওয়া হবে? কৃষকদের প্রতি কৃষি বিভাগের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।”
তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণেই বাগানে ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ওষুধের নাম লিখে দিয়েছি এবং সেগুলো ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ওষুধ ধুয়ে যাওয়ায় কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।”
প্রবাসী উদ্যোক্তার অভিযোগ, বাগান রায় দ্রুত কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ ও সরেজমিন সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয়দেরও দাবি, কৃষি কর্মকর্তারা বাগানটি পরিদর্শন করে রোগের কারণ নির্ণয় ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করলে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে উদ্যোক্তার বাগানটি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।