রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

উমেদনগর সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড দখল-বেদখল নিয়ে উত্তপ্ত ॥ এক পক্ষ মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মেয়র মিজান বলছেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৭৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ পৌর এলাকার উমেদনগর সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড দখল-বেদখল ও ১০ লাখ টাকা আত্মসাত নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এক পক্ষ পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্ট্যান্ড অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ এনে স্ট্যান্ড দখলমুক্ত করার দাবীতে আন্দোলনে নেমেছে। অপর দিকে পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলছেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমুলক।
বুধবার হবিগঞ্জ শহরের থানার মোড়, বেবীস্ট্যান্ড, পোদ্দার বাড়িসহ প্রধান সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরা। এতে পুরো শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সমাধানের অশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
এ ব্যাপারে উমদেনগর সিএনজি স্ট্যান্ডে মালিক সমিতি নিয়োজিত ম্যানেজার মো. আশরাফ আলী বলেন- ‘মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ আমাদের শ্রমিকদের মারপিট করে উমেদনগর স্ট্যান্ড দখল করে নেয়। এমনকি সাবেক ম্যানাজের মাধ্যমে সমিতির প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন।’ তিনি বলেন- ‘আমাদের শ্রমিকরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে দেয়া আশ্বাস দিয়েছেন। পরে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়।’
হবিগঞ্জ জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ জুয়েল বলেন- ‘সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে হাত করে মেয়র মিজান আমাদের ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি তিনি অন্য একটি গ্রুপ তৈরী করে শ্রমিকদের মারপিট করে উমেদনগর স্ট্যান্ডটি দখল করে নিয়েছেন। ’তিনি বলেন- ‘সদর থানার ওসি মাসুক আলী বিষয়টি সমাধানে থানায় ডাকালে আমরা গেলেও মেয়র মিজান ও তার পক্ষের কেউই যায়নি।’
খোয়াই নদীর উত্তর পাড় অটো টেম্পু অটোরিকশা সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান জানান- রাস্তা অবরোধ করে মেয়র মিজানের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত ও চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোন টাকা আত্মসাত করেননি। হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন- জেলা সিএনজি মালিক সমিতির রেজিস্ট্রেশন অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শহরের জেকে এন্ড এইচকে হাই স্কুল সংলগ্ন সিএনজি স্ট্যান্ড, আলম বাজার, দক্ষিণ সাঙ্গর, উত্তর সাঙ্গর, আগুয়া, ইকরাম, সুজাতপুর, উমেদনগর স্ট্যান্ড থেকে মাসে আয় হয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ হিসেবে ১১ বছরে সমিতির ফান্ডে কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে। তার কোন হিসেব নেই। করোনাকালে সিএনজি শ্রমিকরা কর্মহীন অসহায় হয়ে পড়েন। ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও নেতৃবৃন্দ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এই সকল অনিয়মের কারণে তিনি জেলা সিএনজি মালিক সমিতি থেকে পদত্যাগ করে খোয়াই নদীর উত্তর পাড় অটো টেম্পু অটোরিকশা সিএনজি মালিক সমিতি নামে আলাদা সমিতি গঠন করে গত ৩ মাস ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন যার রেজিঃ নং-২৫৯৩। আর এর জের ধরেই গতকাল রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, আমি জনগণের আশা-আকাড়ক্ষার প্রতিফলনে উন্নয়ন কর্মকান্ড করে যাচ্ছি। হবিগঞ্জ পৌরবাসীকে উন্নত সুযোগ সুবিধা দিতে কাজ করছি। আমি সিএনজি অটোরিকশার কোন সমিতিতেও নেই, তাদের কোন চাঁদাবাজিতেও নেই। তিনি বলেন- আগামী পৌর নির্বাচন আসন্ন। আগামী নির্বাচনে যাতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা না দেন এবং আমার বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এই অবরোধ। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আগেও ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে, ভবিষ্যতেও হয়তো তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকবে। মেয়র মিজান দৃঢ়তার সাথে বলেন শহরবাসী আমার সম্পর্কে জানেন। গত ১৩/১৪ মাসে মেয়র হিসেবে আমি কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি তা জনগণ দেখেছেন। আমি আশা করি আগামী নির্বাচনে জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করবেন। মেয়র মিজান তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সড়ক অবরোধের তীব্র নিন্দা জানান।
হবিগঞ্জ সদর থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী বলেন- শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com