বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

চুনারুঘাটে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে মুছিকান্দি পাহাড় দখলের পায়তারা ॥ ‘রক্ত দেবো-তবু জমি দেবনা’ জেলে যাব-মাথা নত করবো না’

  • আপডেট টাইম সোমবার, ৩০ জুন, ২০১৪
  • ৭৯২ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার সামাজিক বনায়নের জমি দখলের পায়তারা করছে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী একটি মহল। বিভিন্ন কৌশলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মুছিকান্দি সামাজিক বনায়নের ১৩৮১ একর জায়গা লীজ নেয়ার নামে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ফুসে উঠছে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। এলাবাসী বলছে ‘রক্ত দেবো-তবু জমি দেবনা’ জেলে যাব- মাথা নত করবো না’।
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ও মিরাশী ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের ৩০ হাজার ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। পৈত্রিক সম্পত্তি না থাকায় ৩০ হাজার মানুষ ১০০ বছর যাবত মুছিকান্দি পাহাড়ে বসবাস করছে। তাদের নেই জমি, নেই দলিল-পত্র। নেই কর্মসংস্থানের সুযোগ। গাছের ফল ও পাহাড়ের লাকড়ি বিক্রি করে সংসার চলে। এদের সহায়তায় সরকার এগিয়ে এসেছিল। কয়েক বছর আগে অংশিদারিত্বমূলক সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসিত করে। কিন্তু বর্তমানে চা ও রাবার বাগান করার নামে ভূমিখেকোদের দৃষ্টি পড়েছে এসব জমিতে।
গাজীপুর ইউপির মেম্বার আব্দুস শহীদ, ইউপি মেম্বার ছালেক মিয়া, আলীনগর গ্রামের রশিদ মিয়া, কৃষ্ণনগর গ্রামের জলিল মিয়া, বাসুল্লা গ্রামের আলী হোসেনসহ কয়েকশ ভূমিহীন জানান, চুনারুঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আকবর হোসেন জিতুর নেতৃত্বে কতিপয় ব্যক্তি এসব জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি তাদের অভিযোগ এখান থেকে উচ্ছেদ করারও হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, রক্ত দেবেন, তবুও জমি দেবেন না।
এ ব্যাপারে গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, ভূমিদস্যুরা আশ্রয়হীন মানুষদের আশ্রয় কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও মাস্তান বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষের আবাসস্থল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আকবর হোসেন জিতু বলেন, মুছিকান্দি পাহাড় দখলের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি সাধারণ লোকদের ভূমি রক্ষায় তাদের পাশে থাকবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, কেউ যদি পতিত জমি লীজ নিয়ে চা বাগান বা রাবার বাগান করে তাতো অবশ্যই ভালো কাজ। তবে কোন ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করা হবে না। এ ব্যাপারে খোয়াই এগ্রো লিঃ এর পরিচালক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লুৎফুর রহমান জানান, সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই পতিত জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চা বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভূমিহীনদের কর্মসংস্থানও হবে।
এদিকে জমি রক্ষায় বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেউ কেউ এলাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জানিয়েছে, তারা মূলত চা ও রাবার বাগান করার জন্য সরকারের কাছ থেকে লীজ নিতে চায়। যেখানে এসব ভূমিহীনদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে গত শনিবার বিকালে স্থানীয় বাসুল্লা বাজারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়ে চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পিপি আকবর হোসেন জিতুকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে। একই দলের সেক্রেটারী, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের, যুবলীগ নেতা লুৎফুর চৌধুরী, আওয়ামীলীগ নেতা বকুল পালকে করা হয়েছে সতর্ক। প্রতিবাদকারীরা বলেছেন, ডিসি খতিয়ানের ওই জমিতে তারা ১শ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিপুল পরিমান জমিতে সৃজন করা হয়েছে সামাজিক বনায়ন। স্থানীয় বাসুল্লা বাজারে গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন মিরাশি ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী তালুকদার। প্রধান অতিথি ছিলেন আজকের পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লুতু। বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য ছালেক মিয়া, শহীদ মুন্সী, এডভোকেট মাসুক মিয়া প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মুছিকান্দি পুর্ব পাহাড় মৌজার কদমতলী, আলীনগর, বাসুল্লা, পায়রাটিলা, শুকুনটিলাসহ ১২টি গ্রামে রয়েছে ডিসি খতিয়ানের ১হাজার ৩৮০ একর খাসভুমি। ওই ভুমিতে বিগত ১শ বছর ধরে গরীব-সর্বহারা মানুষ বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে এখানকার লোকসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ভোটার রয়েছেন প্রায় ৯ হাজার। কোন কোন বসবাসকারী ওই জমি বন্দোবস্তুও এনেছেন। সম্প্রতি আওয়ামীলীগের উপজেলা শাখার সভাপতিসহ অপরাপর আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতা ওই ১হাজার ৩৮০ একর ভুমি বন্দোবস্তু এনেছেন বলে প্রচার করে এতে ২/৩ টি ঘর নির্মান করে কেয়ারটেকার নিয়োগ দেন। এসবের প্রতিবাদ করায় কৌশলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয় প্রতিবাদকারী ইউপি সদস্য ছালেক মিয়াকে। এতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় গ্রামবাসির মাঝে। সভায় বক্তারা বলেন, জান থাকতে এ জমির দখল দেয়া হবে না। কেউ শক্তি প্রয়োগ করে নিরীহ-অসহায় মানুষদেরকে উচ্ছেদ করতে চাইলে তাকে কঠোর ভাবে দমন করা হবে। প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি শফিকুল ইসলাম লুতু কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেন। এদিকে সরকারী ওই খাসভুমি কারো নামে বন্দোবস্তু দেয়া হয়েছে কিনা তা এখনো জানেনা সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com