সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

লাখাইয়ে মধু চাষে সম্ভাবনার দুয়ার ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে অনেক কৃষকের

  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩১০ বা পড়া হয়েছে

আজিজুল ইসলাম সজীব ॥ লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের সাতাউক মাঠে মৌ চাষি ছুরত আলীর স্থাপনকৃত ২৯টি মৌ বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো মধু সংগ্রহ করেন মৌ চাষি মোঃ ছুরত আলী। শীতের তীব্রতায় উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও এক সপ্তাহে ২৯টি মৌ বাক্স থেকে প্রায় ৬০ লিটার মধু সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সরিষা নির্ভর মধু চাষ লাখাইয়ের অন্য কোনো মাঠে করা হয়নি। তা করতে পারলে উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাবনা ছিল। প্রতি মৌসুমের মতো এবারও লাখাইয়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে হলুদের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মৃদুমন্দ বাতাসে দুলছে সরিষার ফুল। লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক, সাতাউক, মোড়াকরি, মালিকানা, তেঘরিয়া, গুনিপুর, সিংহগ্রাম, বামৈ, করাব, পশ্চিম রামপুর মৌবাড়িসহ প্রায় প্রতিটি গ্রামের মাঠে এ দৃশ্য নজরকাড়া।
লাখাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১২০ হেক্টর। তবে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪০০ হেক্টরেরও বেশি জমি। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো জমিতে ফুল ফুটেছে, আবার কোনোটিতে ফুল ফোটার উপক্রম।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনকালে সাতাউক ও মুড়িয়াউক গ্রামের কয়েকজন সরিষা চাষির সাথে আলাপকালে জানা যায়, এ বছর সরিষার ফলন আশানুরূপ হওয়ায় তারা প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
আরেক কৃষক সাজু মিয়া (৫৫) বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। সমুদয় খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকার মতো। যে ফলন হয়েছে তাতে দুই বিঘায় ৬-৭ মন সরিষা পাবো বলে আমি আশাবাদী। এতে আমার খরচ বাদে ২০-২৫ হাজার টাকার মতো মুনাফা হবে।
মুড়িয়াউক গ্রামের চাষি আব্দুল কবির (৬০) বলেন, আমি এ বছর আমার চার বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকার মতো। আশা করি আমার জমিতে যে ফলন হয়েছে তাতে ২২-২৪ মন সরিষা পাবো। এতে আমার ৭০-৮০ হাজার টাকার মতো মুনাফা হবে।
মালিকানা গ্রামের আরিফ জানান, আমাদের মাঠে বোরো ধান আবাদ হয় না। যেহেতু এ মাঠে এখনও ডিপ টিউবওয়েল বসেনি বা এর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তাই আমরা শুধু বোনা আমনের ওপর নির্ভরশীল। আর বোনা আমনের ফলন খুব কম। প্রতি বিঘায় বড়জোর ৬ মন ধান হয়। এতে খরচ বাদে মুনাফা হয় না। তাই আমরা রবিশস্য সরিষার ওপর মূলত নির্ভর করে আসছি। এ সরিষা থেকে নিজেদের তেলের চাহিদা মেটে এবং বাড়তি যে অর্থ পাই তাতে সংসারের খরচ মেটাতে সমর্থ হই।
বামৈ গ্রামের আলকাছ মিয়া ও রুবেল মিয়ার সাথে আলাপকালে তারা বলেন, আমাদের ধান চাষে তেমন কোনো লাভ হয় না। তাই আমরা সরিষা, গম, ধনিয়ার মতো ফসল যখন যেটা সুবিধাজনক মনে হয় আবাদ করে আসছি। এ বছর সরিষা বেশ লাভজনক হওয়ায় আমরা আশাবাদী।
এদিকে সরিষার চাষে ভাল সফলতা অর্জন করায় তিনি ইতোমধ্যে মৌ চাষি ছুরত আলী উপজেলার সাতাউক গ্রামের খোলা মাঠে মধু চাষে মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন।
এই মৌ চাষি জানান, তিনি ২০১৫ সাল থেকে খোলা মাঠ এই ভাবে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি আরো জানান, লাখাই উপজেলায় সরিষা নির্ভর মধু আহরণের সম্ভাবনাময় অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোনো মৌ চাষি এখানে আসেন না। কারণ এই এলাকার কৃষকেরা বোঝে বা না বোঝে সরিষার চাষে বিষাক্ত কীটনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছন এতে মৌমাছিরা মারা যাচ্ছে। তবে দিন দিন অনেক কৃষকের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় তারা আমাকে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও আমাকে সহযোগিতা করছে।
এ ব্যাপারে, লাখাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, লাখাই উপজেলায় সরিষা নির্ভর মধু সংগ্রহ করতে আমরা মৌ চাষিদের সহযোগিতা করে আসছি। লাখাই উপজেলার প্রতিটি সরিষার মাঠ থেকে যাতে মধু আহরিত হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। মৌ চাষিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছি। তিনি আরও জানান, মৌমাছি সরিষার পরাগায়নে সহায়তা করে থাকে এবং সরিষায় রোগ-বালাই কম হয়ে থাকে। এতে ফলন ১৫-২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বালাইনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ার ফলে উৎপাদন খরচও কম হয়।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com