রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জে জোয়ালভাঙার হাওরে মেশিনের সাহায্যে চারা রোপন

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৩৯ বা পড়া হয়েছে

ছনি চৌধুরী, নবীগঞ্জ থেকে ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরে মেশিনের সাহায্যে চারা রোপন করা হয়েছে। ফলে হাওরাঞ্চলে কৃষকের উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা রোপন করায় কৃষিখাতে বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্রমিক ছাড়াই প্রতি ঘন্টায় এক একর জমি রোপন করা যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় কৃষি সমাবেশে ‘রাইস ট্রান্সপ্লান্টার’ মেশিনের দ্বারা বোরো মৌসুমের ধানের চারা রোপন করে কার্যক্রমের উদ্বোধন করে কৃষি বিভাগ।
এতে নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে ও উপসহকারী কর্মকর্তা অজিত রঞ্জন দাশের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন- হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরর উপ-পরিচালক মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী, বিশেষ অতিথি ছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম.এ. আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শৈলেন কুমার পাল। বক্তব্য রাখেন কৃষক মোঃ ওমর আলী, সেলিম মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরর উপ-পরিচালক মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেছেন, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষকের সময়, শ্রম ও ব্যয় কমাতে চায় তারা। যখন ফসলের মাঠে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চেষ্টা করছে, তখন ধান চাষ পদ্ধতি পাল্টে দেয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সমলয়’ নামে একটি উদ্যোগ।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মাকসুদুল আলম এর সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, উক্ত প্রকল্পের আওতায় একটি “রাইস ট্র্যান্সপ্লান্টার কাম সার প্রয়োগযন্ত্র” উদ্ভাবন করা হয়েছে। উদ্ভাবিত মেশিনে একই সাথে ধানের চারা রোপণ এবং সকল সার একসাথে প্রয়োগ করা যায়। কৃষক পর্যায়ে উদ্ভাবিত মেশিনটি অভিযোজনের জন্য চলমান বোরো মওসুমে প্রকল্প এলাকায় কৃষকের মাঠে গবেষণা পরীক্ষা স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসাবে জোয়াল ভাঙা হাওরে উক্ত কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই যন্ত্র দিয়ে এক একর জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায় এক ঘণ্টায়। সনাতন পদ্ধতিতে এই পরিমাণ চারা রোপন করলে সারাদিন লেগে যাবে। আর শ্রমিক ভাড়া করতে হয় ১০ থেকে ১২ জন। একদিনের শ্রমিক খরচ এখন সাতশ থেকে আটশ টাকা। এই হিসাবে ধানের রোপন খরচ লাগবে সাড়ে আট হাজার থেকে সাড়ে নয় হাজার টাকা। কিন্তু সমলয় এই খরচ কমিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজারে নামাবে। হাওরের কৃষকদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হবে। সেখানে ৩০ শতাংশ টাকা দিলেই একটি যন্ত্র কেনা যাবে, সরকার দেবে বাকি টাকা। আকার ভেদে যন্ত্রের দাম ১৭ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সমতলের কৃষকরা সাড়ে আট থেকে সাড়ে ১২ লাখ আর হাওরের কৃষকরা পাঁচ লাখ ১০ হাজার থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে যন্ত্রটা কিনতে পারবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com