বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

ভাতার টাকা জাদুঘরে দান করলেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৩৮ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভাতার টাকা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দান করেছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা খাতুন। দারিদ্রতাকে পায়ে ঠেলে তিনি এককালিন দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। প্রতিমাসে ভাতার টাকা থেকে আরও ২ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। মৃত্যুর পরও যেন অনুদান দেয়া থেমে না থাকে সে জন্য জনসম্মূখে ভাইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তার এমন উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসালেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। যুদ্ধাহত এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বানিয়াচং উপজেলার হলদারপুর গ্রামের বাসিন্দা। মহান ১৯৭১ এ পাক হানাদার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল এমএ রবের গ্রামের বাড়ি খাগাউড়া গ্রাম লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক না হওয়ায় বোমা আঘাত হানে পাশর্^বর্তী হলদারপুর গ্রামে। বোমার আঘাতে অনেকেই সেদিন মারা যান। একটি পা হারান দরিদ্র পিতার কন্যা ফারিজা খাতুন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির জনকের হাতের লেখা একটি চিঠিও পান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪২ বছরেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর মেয়ে আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়ার হাত ধরে ২০১৩ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান। এরপর থেকেই আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়ার পৈত্রিক সম্পত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুদান দেয়ার জন্য উদ্গ্রীব ছিলেন তিনি। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নগদ এককালিন ১০ হাজার ও জুলাই মাসের আরও ২ হাজার টাকা অনুদান হস্তান্তর করেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা খাতুনকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুজ জাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ, হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র চন্দ্র গুপ্ত, দীনেশ চন্দ্র দাশ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও সাবেক উপসচিব শেখ ফজলে এলাহি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অজয় চন্দ্র দে, লেখক সাইদুর রহমান, মানিক চৌধুরী পাঠাগারের সদস্য অনুপ কুমার দেব প্রমূখ। অনুষ্ঠানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ফারিজা খাতুন বলেন, এ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে। তাই আমি যতদিন বেঁচে থাকবো প্রতিমাসে আমার ভাতা থেকে ২ হাজার টাকা প্রদান করবো। এতে আমি মনের দিক থেকে অনেক শান্তি পাবো। যাদের সাধ্য আছে সকলকেই এ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com