রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে ভরা মৌসুমেও মিলছে না দেশীয় প্রজাতির মাছ ॥ অস্তিত্ব সংকটে

  • আপডেট টাইম শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪
  • ২৫৬ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জের নদী, হাওর ও খালবিলে এক সময় প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখানে উৎপাদিত মাছ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। বর্ষা মৌসুমে হাওরে দেরিতে পানি আসা, নদী দূষণ, নাব্য সংকট, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার, কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারসহ নানা কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
এতে করে ভরা মৌসুমেও স্থানীয় বাজারে আর দেখা মিলছে না দেশীয় প্রজাতির মাছের। তবে বিলুপ্ত হওয়ার পথে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ রায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
হবিগঞ্জ হাওরাঞ্চলের জেলা হওয়ায় এক সময় এ জেলায় মাছের প্রাচুর্য ছিল। জেলার নদী, হাওর, খালবিলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল, পাবদা, শিং, কই, খলিশা, বাইমসহ দেশীয় প্রজাতির প্রায় সব ধরনের মাছ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির নানা মাছ। দিন দিন নাব্য কমছে কুশিয়ারা, কালনি, খোয়াই, করাঙ্গী, ধলেশ্বরীসহ জেলার প্রায় সব নদী ও খালবিলের। এ ছাড়া অবাধে পোনা নিধন, নিষিদ্ধ জাল ও কীটনাশকের অবাধ ব্যবহার, শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানি দূষণের কারণে কমছে মাছের বংশ বিস্তার, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল। এতে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
জেলেদের অভিযোগ, পানি দূষণসহ নানা কারণে এখন আর নদী, হাওর কিংবা খালবিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া অবাধে পোনা নিধনও সংকটের একটি অন্যতম কারণ। সরকার যদি দেশীয় প্রজাতির মাছ রায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেয়, তা হলে তা আরও কমে আসবে।
হিরেন্দ্র দাস নামে এক জেলে বলেন, বর্তমানে মাছ শিকারের যত পদ্ধতি রয়েছে, আগে তা ছিল না। এখন বিভিন্ন ধরনের জালের আবিষ্কার হয়েছে। যার ফলে হাওরের একেবারে তলদেশ থেকে শুরু করে ওপরের সব মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। আলাল মিয়া নামে অপর একজন জেলের ভাষ্য, আগে মাছ নিধনে কীটনাশকের প্রয়োগ হতো না। বর্তমানে মাছ নিধনে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে মাছের বংশ বিস্তারে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিমাণ ৮১ হাজার ৬৭১ হেক্টর। ২০১২ সালে হবিগঞ্জে দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৬৯৩ টন, যা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার টনে। অর্থাৎ গেল এক দশকে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন কমেছে ২২ হাজার টনেরও বেশি। তবে হাওরাঞ্চলের জলাশয়ে নানা প্রজাতির মাছ চাষের পরিমাণ অনেক বেড়েছে।
হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন বাড়াতে কাজ করছে সরকার। এ জন্য জেলেরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে যেন হাওরে মাছ না ধরতে পারে, সে জন্য জেলা মৎস্য বিভাগের অভিযান চলমান আছে। এ ছাড়া প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে হাওরে পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। তবে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com