রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জের জনতার বাজার বন্ধে প্রশাসনের মাইকিং

  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ৩০ মে, ২০২৫
  • ২৫৪ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ ব্যুরো অফিস ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার বন্ধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। ফলে নবীগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী ফেসবুকে লিখে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচার করেন। এর প্রেক্ষিতে দিনারপুর এলাকার কতিপয় জামাল আহমেদ নামে এক যুবক প্রশাসনের ওই মাইকিংকে চ্যালেঞ্জ করে সে জানায় জনতার বাজার চলছে, চলবে। বাজার আছে, থাকবে। এছাড়া যারা মাইকিং করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুমকী দেন জামাল আহমেদ। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সর্বত্র তোলপাড় চলছে।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজারে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে বসছে অবৈধ পশুর হাট। জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই হাট বন্ধ হয়নি, বরং তা ঘিরে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য। ‘প্রত্যায়ন’ নামে বিক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কার্যক্রমের পেছনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতের প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান গত ৭ জানুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জনতার বাজার পশুর হাট অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে লিখিত নির্দেশ দেন। এরপর ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে হাট পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, কেউ যদি সরকারি অনুমতি ছাড়া হাট পরিচালনা করে বা সহযোগিতা করে, তবে তা হাট-বাজার আইন ২০২৩ ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হবে।
তবে বাস্তবে এই নির্দেশনাগুলো কার্যকর হয়নি। প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা এবং রহস্যজনক নীরবতার সুযোগ নিয়ে জনতার বাজার পরিচালনা কমিটি গত ৪ মাসে অন্তত ১৫ বার অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়েছে। প্রত্যেকবারই গরু-ছাগল বিক্রয়ের সময় ‘প্রত্যয়ন’ নামে প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। প্রতি হাটে আদায় হচ্ছে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। স্থানীয় সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত প্রায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই হাট পরিচালনায় একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের গোলাপ, বীরপ্রতীক নুর উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাজারের সাধারণ সম্পাদক কাজী তোফায়েল, আওয়ামী লীগ নেতা আজির উদ্দিন, কাজী জাহিদ, গজনাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিউল আলম বজলু, সহসভাপতি কাওছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের কায়েদ, গজনাইপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহসভাপতি ও ইউপি সদস্য জাহেদ আহমদ এবং নজরুল ইসলাম। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ওই কমিটি অবৈধভাবে হাট বসিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
সব মিলিয়ে জনতার বাজার পশুর হাট এখন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও কোটি টাকার অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। এর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এর প্রেক্ষিতে সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের ২৪ মে এক সিদ্ধান্তের আলোকে অবৈধভাবে পরিচালিত জনতার বাজার বন্ধের নির্দেশনা দিলে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী শনিবার থেকে কোন ধরনের পশুর হাট জনতার বাজারে বসানো যাবে না মর্মে দিন ব্যাপী মাইকিং করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জনতার বাজার বন্ধ করা হয়েছে। কেউ প্রশাসনের মাইকিংকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টি তদন্তক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com