শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

অর্থ কষ্টে আছেন মুসা বিন শমসের

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৬
  • ৭৯০ বা পড়া হয়েছে

এক্সপ্রেস ডেস্ক \ অর্থ কষ্টে আছেন কথিত প্রিন্স মুসা বিন শমসের। কাছের মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার চেয়েও পাচ্ছেন না। গুলশানে স্ত্রীর নামের বাড়িটি ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়েছেন বহুতল ভবন তৈরি করার জন্য। কোম্পানি অগ্রীম হিসাবে ২০ কোটি টাকা দিয়েছেন মুসার স্ত্রীকে। ওই টাকা দিয়েই তাদের খরচ চলছে। ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের কাছে টাকা ধার চেয়েছেন তিনি। পরিশোধের নিশ্চয়তা না থাকায় মুসাকে টাকা ধার দিতে আগ্রহী নয় কেউ। আবার ধার দিলে দুদকের নজরদারিতে আসতে পারেন এই আশঙ্কায় কাছের মানুষরাও কিছুটা দুরত্ব বজায় রাখছেন। মুসার ঘনিষ্টজনদের সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তাহলে ড্যাটকো অফিসের কর্মচারী ও তার নিজের দেহরক্ষীদের বেতন  বা চিকিৎসার খরচ কে দেয় জানতে চাইলে ওই সূত্র জানায়, এই সব খরচ মুসা বহন করেন না। অফিস বহন করে। আর তার গাড়ি, চিকিৎসাসহ সব ধরনের খরচ বাইরে থেকে আসে। কে দেয়, এই ব্যাপারে জানতে চাইলে এর কোন সদুত্তর কেউ দিতে পারেননি। সূত্র জানায়, কোথায় ও কোন দেশ থেকে আসে সেটা বলতে পারবো না। তবে তিনি যাদের জন্য কাজ করেন তারা দেন।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা মুসা বিন শমসেরের নামে বাংলাদেশে একটি ব্যাংক হিসাব ছাড়াও কোন ব্যাংক হিসাব পাননি। যে হিসাব পেয়েছেন সেটাও বন্ধ। মুসা দেশে কোন ব্যাংক হিসাবে এখন আর কোন টাকা লেনদেন করেন না। বাংলাদেশে তার নামে কোন টাকা নেই। নেই তার নামে কোন বাড়ি, গাড়িও। কেবল ১২০০ বিঘা জমি আছে বলে মুসা দুদকের কাছে জানিয়েছেন। তার দেহরক্ষীদের খরচ, গাড়ি, বিদেশ যাওয়া আসা, বিদেশে বিলাশ বহুল হোটেলে থাকা, চিকিৎসা, হেলিকপ্টার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, লিমুজিনে চড়া এই সব খরচ কে বহন করে এটা মুসার কাছে জানতে চাইলে তিনি অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে জানান, এটা দেন তার বিদেশের ব্যবসায়িক পার্টনার। দুদক পার্টনারের নাম জানতে চাইলে কিন্তু তিনি কোন পার্টনারের নামে বলেননি। এমনকি কোন কোন দেশে তার অফিস আছে কিসের অফিস তাও বলেননি।
দুদক সূত্র আরো জানায়, মুসা দুদকের কাছে ব্যাংক হিসাবে দেখিয়েছেন তিনি এক কোটি টাকারও মালিক নন। আর তার দেনার পরিমাণ তার মূল সম্পদ ও পরিসম্পদের চেয়ে বেশি। এই কারণে তিনি দেনা মাথায় নিয়ে চলছেন। ড্যাকটো অফিসেও তার একক মালিকানা নেই, স্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য অংশীদার রয়েছে। এখন আর জনশক্তি রপ্তানী তেমনভাবে করতে পারছেন না বলেও দুদকের কাছে জানিয়েছেন। অফিসের খরচের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মুসা। এদিকে ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য দশ কার্যদিবস সময় দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৮ জানুয়ারি তার এই সময়সীমা শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে তাকে উপস্থিত হতে হবে। এরমধ্যে উপস্থিত না হলে এই সময় শেষ হলে তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য নতুন সময় নির্ধারন করবেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।
মুসা বিন শমসেরের ব্যক্তিগত সহকারি জানান, স্যার অসুস্থতার কারণে বুধবার বনানীস্থ ড্যাটকো কার্যালয়ে যাননি। বাসায় বিশ্রামে আছেন। আরো কয়েকদিন বিশ্রামে থাকবেন। এরপর সুস্থবোধ করলে অফিস করবেন। মুসা বিন শমসেরের এখন চিকিৎসা হচ্ছে দেশেই। আপাতত তিনি বিদেশে যাচ্ছেন না। তার চিকিৎসা করছেন ডাঃ তাহের চৌধুরী।
মুসা বিন শমসেরের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি মুলত সুইস ব্যাংকে তার হিসাব জব্দ হওয়ার কিছুদিন পর থেকে অসুস্থ হন। সেটা ২০০৮ সালের ঘটনা। তখন এতটা খারাপ অবস্থা ছিল না। কিন্তু পরে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এতদিন তিনি অল্প সময়ের জন্য অফিস করতে পারলেও গত সপ্তাহ থেকে অফিস করছেন না। পাশাপাশি দিন যত যাচ্ছে মৃত্যুর ভয়ও তার বাড়ছে। সব মিলিয়ে তিনি আসলে ভাল নেই।
বুধবার দুপুরে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত সহকারি জানান, স্যার এখন ঘুমাচ্ছেন। শরীর ভাল নয়। কথা বলার মতো অবস্থা নেই। তিনি দুদকে কবে যাবেন জানতে চাইলে বলেন, দুদক সময় দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। দুদকের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, আমরা তাকে দশ কার্যদিবসের সময় দিয়েছি। এরপর আবার তাকে ডাকা হবে। তখন তাকে আসতে হবে। তিনি তিন মাস সময় চেয়েছেন। তাকে তিন মাস সময় দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কেবল অসুস্থতা বিবেচনা করেই এই সময় দেওয়া হলো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com