রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

মাধবপুরে ৩ খুনের ঘটনায় ৩ অভিযোগ ॥ বিপাকে পুলিশ

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৫৯৯ বা পড়া হয়েছে

পাবেল খান চৌধুরী ॥ মাধবপুরে আলোচিত মা-মেয়েসহ ৩ খুনের ঘটনা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় ৩জন বাদী হয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতিটি অভিযোগে আসামীর সংখ্যাও কমবেশী করা হয়েছে। এতে করে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই সাথে প্রকৃত ঘটনা রহস্যাবৃত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে বিপাকে পুলিশও। এদিকে এফআইআরকৃত মামলার বাদী মোহন মিয়া নিজে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদী হননি বলে আদালতে এফিডেভিট করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মাধবপুর থানায় প্রথম অভিযোগটি দেন নিহত জাহানারা বেগমের দুলাভাই হাজী মোঃ মোহন মিয়া ওরফে কালন মিয়া। এই অভিযোগে নিহত জাহানারার দেবর বিদেশ ফেরত শাহ আলম ওরফে তাহের উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাহের বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই অভিযোগের পর নিহত জাহানারার মেয়ে নিহত শারমীন আক্তারের জামাই বাদী পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগে তাহের উদ্দিনসহ ১২জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সর্বশেষ নিহত জাহানারার স্বামী গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে আদালতে আরেকটি অভিযোগ দিয়েছেন। এই অভিযোগে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে থানায় প্রথম অভিযোগকারী নিহত জাহানারা বেগমের দুলাভাই হাজী মোঃ মোহন মিয়া ওরফে কালন মিয়া আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজে ইচ্ছাকৃত বাদী হননি বলে দাবী করেছেন। কালন মিয়া তার এফিডেভিটে উল্লেখ করেন, গত ২৩ আগস্ট রাতে লোকমুখে তাঁর শ্যালিকা জাহানারা বেগম জানু স্বামী পক্ষের আত্মীয়স্বজন দ্বারা খুন হয়েছে বলে জানতে পেরে থানায় লাশ দেখতে আসেন। এ সময় পুলিশ সনাক্তকারী হিসেবে সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেয়। পরে এ স্বাক্ষরকৃত কাগজে মামলা লিখে এফআইআর করেন। এফিডেভিটে তিনি আশংকা ব্যক্ত করেন অপরাপর আসামীদের রক্ষা করতে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করে সাদা কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেয়। যা তিনি মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে দেননি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) সাজিদুল ইসলাম জানান, প্রথমে নিহত জাহানারার ভগ্নিপতি হাজী মোঃ মোহন মিয়া ওরফে কালন মিয়া বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি রুজুর একদিন পর নিহত জাহানারার মেয়ে নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী কামাল উদ্দিন আরো ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি বর্ধিত এজাহার দেন। বাদী পক্ষের দেওয়া এজাহারটি আমরা জিডি মূলে আদালতে প্রেরণ করেছি। একই সাথে কামাল উদ্দিনের দেয়া বর্ধিত এজাহারের প্রেক্ষিতে আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। এখনো রিমান্ডের শুনানী বা আদেশের খবর পাইনি।
এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোকতাদির হোসেন প্রথম বাদী কালন মিয়ার আশংকার কথা অস্বীকার বলেন, পুলিশ কাউকে আড়াল করতে যাবে কেন। নিহতের স্বজন বাদী হয়ে অভিযোগ দেয়। আমরা অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করি। এবং হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে আমরা মূল ঘাতক শাহ আলম ওরফে তাহের উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করি। একই সাথে ঘাতক তাহের বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে। তিনি আরো জানান একটি ঘটনায় একটি মামলাই হয়। কিন্তু নিহতের মেয়ের জামাতা পরবর্তিতে আরো এগারো জনের নাম সংযুক্ত করে আরেকটি বর্ধিত এজাহার দাখিল করেন। আমরা ওই বর্ধিত এজাহারটিও জিডি মূলে গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করেছি।
সর্বশেষ গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ ব্যাপারে তিনি বলেন, বিজ্ঞ আদালতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩ থেকে ৪ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। এখন আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। নির্দেশনা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
প্রসঙ্গত, ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বীরসিংহপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম, কন্যা শারমীন আক্তারকে তাহের উদ্দিনসহ তাঁর লোকজন তাঁদের বসত ঘরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এর প্রায় ঘন্টাখানেক পরে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আলীমের ছেলে শিমুল মিয়াকেও তাঁর বাড়ির পাশে রাস্তায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে ঘাতক তাহেরকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com