শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জে দেড় হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানি নীচে

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৬৬৩ বা পড়া হয়েছে

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ থেকে ॥
টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জে দেড় হাজার হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে বলে ধারনা করছেন অনেকেই। এছাড়া টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারনে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অপর দিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অপর দিকে নদীগুলোতে পানি ও স্রোত বাড়ায় বিভিন্ন এলাকার বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষার জন্য অনেক স্থানে বস্তা দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধ এলাকায় পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া খাল ও নদীতে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে পানি আরও বাড়লে বাঁধগুলো রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৮ মার্চ থেকে উপজেলায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এতে নদ-নদী, খাল, বিলের পানি বেড়ে চলেছে। ধান পাকার আগেই কাঁচা ধানের তোড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। আগের মত দেখা যায় না গোছা গোছা ধানের শীষ। অসময়ের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে নদ নদী ও খাল-বিলের পানি বেড়ে বিভিন্ন হাওর প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার বরার হাওর, দীঘলবাকের সাতাশি বন, কসবার ফেরিসাইট, এরাবরাক নদীর চর, মখা হাওর, গুঙ্গিয়ারজুরি হাওর, সৌলাগর, লাউয়াইল বিল, আলমপুরের বরবিল, বেরিবিলসহ উপজেলার ২৫টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে।
কৃষক সাহিদ মিয়া বলেন, ‘আমার সব শেষ, এবার দুর্ভিক্ষ ছাড়া কিছুই চোখে দেখছি না। নবীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮’শ হেক্টর। এখানে অর্জিত হয়েছে ১৭ হাজার ৪’শ হেক্টর। জানা গেছে, বিভিন্ন খাল, নালা ভরে গিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। সময় মতো পানি নিষ্কাশন হলে ফসলহানি এড়ানো যেত বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডঃ আলমগীর চৌধুরী বলেন, অকাল বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন হাওরের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দুলাল উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকার ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে হাওর উন্নয়ন ও আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন প্রকল্প জরুরী। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগী হয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধিনে নদী খনন কাজ শুরু করতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com