বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

নবীগঞ্জের দিনারপুরে নিহত কাওছারের পিতাকে হত্যার চেষ্টা ॥ এক দুর্বৃত্ত আটক

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১৮
  • ৭৪৬ বা পড়া হয়েছে

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের দেওলাবাড়ি গ্রামের কাওছার মিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার পর এবার তার (কাওছারের) পিতা হায়দর মিয়াকে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় এক দুর্বৃত্তকে জনতা আটক করে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটক দুর্বৃত্তের নাম জালাল মিয়া। তিনি বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের ইউসুফ মিয়ার পুত্র।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে,
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এক যুবক হায়দর মিয়ার বাড়ির উঠান থেকে পানি খাওয়ার জন্য ডাকডাকি শুরু করে। এ সময় দায়দর মিয়ার পরিবারের লোকজনের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে সময় হায়দর মিয়া দরজার ফাঁক দিয়ে ৬/৭ জন যুবককে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। বিপদ আচ করতে পেরে হায়দর মিয়া মোবাইল ফোনে প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন দৌড়ে হায়দর মিয়ার বাড়িতে ছুটে আসেন। এসময় যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। লোকজনও ধাওয়া দিয়ে জালাল মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। গতকাল বুধবার সকালে আটক জালালকে পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে জালাল জানায় যে, হায়দর মিয়ার ৩য় কন্যা মাসেদা বেগমের স্বামী লিটন মিয়া তাকে এখানে নিয়ে আসে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ বছর পূর্বে হায়দর মিয়ার ৩য় কন্যা মাসেদা বেগমকে চুনারুঘাট উপজেলার সকর আলীর পুত্র লিটন মিয়ার কাছে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই মাসেদা বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছে। বিয়ের কিছুদিন পর মাসেদা এবং লিটনের মধ্যে মৌখিকভাবে ডির্ভোস হয়ে যায়। এরপরও বিভিন্নভাবে লিটন তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে। এছাড়াও সে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত আছে বলে সূত্রে জানা গেছে। হায়দর মিয়ার মেয়ের জামাই লিটনের চলাফেরা সন্দেহজনক তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই কাওছার হত্যাসহ সকল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে হায়দর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য আমার বাড়িতে ৬/৭ জন যুবক হানা দিয়েছিল। স্থানীয়দের মাধ্যমে একজনকে আটক করা হয়েছে। এসবের পিছনে আপনার মেয়ের জামাতা জড়িত থাকতে পার কি-না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটককৃত জালাল আমার মেয়ের জামাই লিটন তাকে এখানে এনেছে বলে জানিয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া গত ৩১ জুলাই হবিগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস পত্রিকায় হায়দর আলীর নাম ব্যবহার করে যে প্রতিবাদ লিপি ছাপানো হয়েছে তাও ওই লিটন মিয়ার কাজ বলে দাবী করছেন হায়দর আলী। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সব বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান বলেন, সকালে জালাল নামে এক যুবককে ইউনিয়ন কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি সে কার সঙ্গে হায়দর মিয়ার বাড়িতে এসেছে। প্রতিউত্তরে সে জানায় হায়দর মিয়ার মেয়ের জামাই লিটন তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। পরে তাকে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয় ।
নবীগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, জালালকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এবিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৩ মাস আগে হায়দর মিয়ার ছেলে কাওছার খুন হয়। বাড়ি থেকে বেশ কিছু দূরে কাওছারের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কিন্তু পুলিশ দীর্ঘদিনেও নিহত কাওছারের মাথা উদ্ধার করতে পারেনি। কয়েকদিন আগে এলাকার একটি ব্রিজের ওপর কাওছারের মাথা দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে খবর দিলে পুলিশ মাথাটি জব্দ করে নিয়ে যায়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com