বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতছড়ি উদ্যানে বন্য প্রাণীর পানির সংকট প্যারিসে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে বানিয়াচংয়ের শিশুর মৃত্যু ॥ আহত ৭ মাধবপুর ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় জনভোগান্তি বাহুবলে এক অসহায় পিতার আকুতি ॥ “আমার সন্তানকে বাঁচান” ইকুইপ প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দীর্ঘদিন পড়ে আছে কড়ই গাছ বিজিবির পৃথক অভিযান দেশীয় অস্ত্র, মদ ও কাপড়সহ আটক ২ বাহুবলে পরকিয়া প্রেমের বলি গৃহবধূ সুমির দাফন সম্পন্ন ॥ স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক হবিগঞ্জ শহর থেকে ১৬ বছরের কিশোরী নিখোঁজ চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী

  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৯
  • ৭৬৪ বা পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন আহমেদ প্রধানের আদালতে গতকাল বুধবার মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইউএনও’র অফিস সহকারি হরিপদ দাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণ করে আনীত অভিযোগ তদন্তক্রমে প্রতিবেদন প্রদান করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইসভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে বাদি উল্লেখ করেন, গত ৬ মার্চ বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের করাঙ্গী নদীর বাঁধে মাটির কাজের ২ লাখ টাকার বিলের একটি চেকে সই করার জন্য ইউএনও মো. জসিম উদ্দিন তার অফিস সহকারি হরিপদ দাশকে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে পাঠান। কাজটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় তিনি চেকে সই দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় অফিস সহকারি হরিপদ তাকে বলেন ইউএনও নির্দেশ দিয়েছেন চেকটি স্বাক্ষর করার জন্য। কিন্তু তাতেও প্রকৌশলী রাজি হননি। পরে অফিস সহকারি চেক সই না দেয়ার কথা ইউএনও জসিম উদ্দিনকে জানান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি সাথে আরও কয়েকজনকে নিয়ে প্রকৌশলীর কক্ষে গিয়ে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে তাকে গ্রেফতারের আদেশ দেন। পরে তাকে ইউএনও’র কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. আবু জাকির সেকান্দর বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে মুচলেকা দিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মো. মহিউদ্দিন ছাড়া পান। এ ঘটনায় প্রকৌশলী নিজের ও তার বিভাগের কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, প্রকৌশলীকে আটকের বিষয়টি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও স্টাফরা। তারা ইউএনও’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এদিকে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন। এতে উক্ত প্রকৌশলীকে আইন অমান্য করে হাতকড়া পড়ানো ও গ্রেফতার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সাথে আগামী ৬ এপ্রিল ইউএনও জসিম উদ্দিনকে স্বশরিরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদিপক্ষের আইনজীবী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা আরেকজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণ করতে পারেননা। এটি যেমন আইন বিরোধী, তেমনি সরকারি চাকরি নীতিমালা পরিপন্থী।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com